চিতল মাছ চেনার উপায় এর পুষ্টিগুণ চিতল মাছের জনপ্রিয়তা চিতল মাছ চাষ ও সংরক্ষণের উপায়|

 চিতল মাছ বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু মিঠা পানির মাছ | এই মাছ বাংলাদেশের নদীপুকুর উৎপন্ন করা | অন্য মাসে তলনায় এই মাছের দাম তিন থেকে চার গুণ বেশি| এর গায়ে সাদা রূপালী চকচকে আস পিঠে কালো দাগ আর ভাজলে এটিকে মুচমুচে স্বাদের জন্য  নদীর রানী বলা হয় 





1. চিতল মাছ চেনার উপায়:  আকার আর চেনার গঠন: লম্বাটে চ্যাপ্টা ছুরির মত দেখতে |2 থেকে 3 ফুট পর্যন্ত লম্বা ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়| ৫ থেকে ৭ কেজি ওজনের চিতল পাওয়া যায়|
রং: পিঠ কালচে , পেট রুপালির সাদা| সারা গায়ে ছয় থেকে চারটা কালো গোল দাগ থাকে| এই দাগের জন্যই নাম চিতল|
মুখ ও দাঁত: মুখ বড় চল উপরে চেয়ে লম্বা| ছোট ছোট ধারালো দাঁত থাকে, তাই জ্যান্ত ধরতে সাবধান|       . স্বাদ; কাটার জন্য বদনাম থাকলেও মাংস একদম সাদা , শক্ত আর মিষ্টি|   
2. কোথায় পাওয়া যায় ?
. বাসস্থান: নদী পদ্মা মেঘনা যমুনা বুড়িগঙ্গার মতো  বড় নদী  | গভীর স্রোত  এমন জায়গা আর ডোবা বিল এদের প্রিয় | 
সিজন: ভাদ্র আশ্বিন মাসে মানে বর্ষা শেষে  চিতলের আসেন ডিম ছাড়ার সময়| এই সময় মাছ মোটা তাজা হয় |
. আচরণ: রাতের বেলায় শিকার করে| পুটি ,মলা ,টেংরা মাছ খেয়ে বড় হয় | খুব চালাক মাছ জাল দেখে পালায়|]
3. চিতল মাছের পুষ্টিগুণ: প্রোটিন:18-20g-বাচ্চা বয়স্কদের জন্য পারফেক্ট |
. ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড: হার্ট ভালো রাখে, ব্রেন ভালো করে |
. ক্যালসিয়াম ও  ফসফরাস : হাড় মজবুত করে |
. ভিটামিনA,D,B12: চোখ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় |
. ক্যালোরি: মাত্র ১১০ ক্যালরি | তাই খুব সহজে ডায়েটে রাখা যায় খাবারের তালিকা|
4, দাম কেন এত বেশি?
. ছোট500g-1kg:1200-1400 টাকা/কেজি |
. মাঝারি 1.5-2.5 kg:1500-1700 টাকা/কেজি|
. বড় 3kg+:1800-2200 টাকা/কেজি
দাম বেশি হওয়ার তিনটা কারণ:1. যোগান কম: নদীদূষণ আর অতিরিক্ত মাছ ধরার সংখ্যা কমে গেছে |
2. ধরা কঠিন: জালে ধরা দেয় না সহজে| । বড়শি বা চাইদিয়ে ধরতে হয়|
3. চাহিদা বেশি: বিয়ে অনুষ্ঠান রেস্টুরেন্টে হোটেলে সবাই চিতল খুঁজে|
.5. চিতল মাছের পাঁচটি রেসিপি: চিতল মাছের মুইঠা কোপ্তা কারি:1. মাছের কাঁটা বেছে পিয়াজ, আদা, রসুন মসলা দিয়ে বেটে বল বানিয়ে ঝোল এ রান্না| বাঙালির সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার|
2. চিতল ভাজা: লবণ হলুদ মাখিয়ে সরিষার তেলের কড়া করে ভাজা |
3. চিতল পেঁচি চচ্চড়ি : আলু বেগুন কাঁচা কলা দিয়ে মাখামাখা চচ্চড়ি|
4.    চিতল দো পেঁয়াজা পিয়াজ বেশি দিয়ে ঝাল ঝাল ভুনা করা|
5. চিতল মাছের মালাইকারি : নারিকেলের দুধ দিয়ে রান্না করা |
6. চিতল মাছ কেনা ও সংরক্ষণ টিপস: টাটকা চেনার উপায়: চোখ উজ্জ্বল ও ফোলা থাকবে আশ চকচকে গায়ে চাপ দিলে দেবে যাবে না | গন্ধ হবে সমুদ্রের মতো পচা গন্ধ না|                                             . ফ্রোজেন না জ্যান্ত: ফ্রোজেন হলে প্যাকেটে বড় থাকতে হবে| 
সংরক্ষণ: কেটে পিস করে  জিপ লক ব্যাগে ডিপ ফ্রিজে একমাস রাখা যায় | মইঠার জন্য বাটা মাছ ১৫ দিন ভালো থাকে | 
7.  চিতল মাছ চাষের পদ্ধতি কি?                                                                                                                    .  পুকুর:5-7 ফুট গভীর পানি পরিষ্কার রাখতে হবে |  
  . খাবার: ছোট মাছ মাছের , মাছের প্লেটে খাবার দিতে হয়| এটা মাংসাশী তাই খরচ বেশি |
. মিশ্র চাষ : চিতল মাছ কাপ  জাতীয় মাছের সাথে মিশ্রভাবে চাষ করা যায়  | প্রতি শতাংশে  5 থেকে থেকে ছয়টি চিতল মাছের পোনা ছাড়া যাবে | 
. লাভ: এক বছরে ১. ৫-2 কেজি হয়| বাজার দাম বেশি হয়ে লাভের মার্জিন ভালো | 
8. সাবধানতা কাটার সমস্যা: প্রচুর পরিমাণ কাটা সমস্যা রয়েছে ভালোভাবে কাটা বেছে না খাওয়ালে বাচ্চাদের গলায় বেঁধে যেতে পারে||
. গাউট রোগী: প্রোটিন বেশি তাই ইউরিক এসিড বাড়তে পারে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত|| 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url